সার্চ-ইঞ্জিন-র‍্যাঙ্কিং-ফ্যাক্টর

আমরা সবাই জানি যে, গুগল এর প্রথম পেজ এ রাঙ্ক এ আসতে হলে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটিকে গুগল এর নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। আর এই নিয়ম গুলোই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। এসইও এর মধ্যে ২০০+ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর আছে। আর আপনার ওয়েবসাইটকে SEO করাতে হলে অবশ্যই, এই সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলো অনুসরণ করতে হবে। যা দিয়ে মূলত আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে আপনি খুব সহজেই গুগল এ রেঙ্ক করতে পারবেন। তাই একটি ওয়েবসাইট রেঙ্ক করাতে হলে নিশ্চিত ভাবে এই গুলো অনুসরণ করতে হবে। 

সুতরাং আজকে আমরা অলোচনা করবো গুগল র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর সম্পর্কে। এইগুলো জানলে আমরা SEO তে অনেক ভালো কিছু করতে পারবো। তাই আমাদের সাথেই থাকুন।

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর কি?

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হলো কি কি বিষয়ের উপর একটি সার্চ ইঞ্জিন একটি ওয়েবসাইটকে রেঙ্ক দেয়। অর্থাৎ গুগল এ যে আমি প্রথম পেজ এ বা প্রথমের দিকে আসবো এইটা কিসের ভিক্তিতে গুগল আমাকে প্রথমে নিয়ে আসবে কিংবা  একটা ওয়েবসাইটকে প্রথমে নিয়ে আসবে কিন্তু অন্যদের নিয়ে আসবে না। এই ভিক্তি বা বিষয়গুলো আমরা আজকে জানার চেষ্টা করবো। 

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর এর মধ্যে কি কি থাকে?

নিচে সার্চ ইঞ্জিন ফ্যাক্টর গুলো সম্পর্কে অলোচনা করা হলো। এইখানে বলে রাখা ভালো যে, এইটা শুধু নিচে হচ্ছে পয়েন্ট এর নাম। এইগুলার ভিতরে আরো অনেক গুলো সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর আছে। আসলে, সত্যি কথা বলতে গেলে গুগল প্রায় ২০০ এর বেশি সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর এর উপর ভিক্তি করে একটি ওয়েবসাইটকে রেঙ্ক দিয়ে থাকে। এই ২০০+ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর আমাদের পুরোপুরি মানতে হবে ব্যাপারটা ওই রকম না। কিছু ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু যত টুকু বেশি বা যত বেশি পারি ততই হচ্ছে আমার ওয়েবসাইট এর জন্য ভালো। নিচে পয়েন্টগুলোর নাম দেয়া হলো :

Domain factors
content factors
website factors
on-page SEO factors
off-page SEO factors

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

এই আর্টিকেল এ আমরা শুধু মাত্র মেজর ranking factor গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। সব গুলো ranking factor নিয়ে কথা বলবো না। যেসব সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর না জানলেই নয়, সেই গুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। সুতরাং আমাদের সাথেই থাকুন।

Domain Factors

ডোমেইন এর বয়স: যে দীর্ঘ দিন আগে তার জন্য তার ওয়েবসাইটি রেজিস্টার করেছে অর্থাৎ তার ওয়েবসাইটি অনেক দিনের পুরনো সে কিন্তু ranking অ্যাক্টিভ প্রায়োরিটি বেশি পাবে। যেমন আমি একটা নতুন ওয়েবসাইট বা ডোমেইন করলাম, রাতারাতি আমি অন্যদেরকে পেছনে ফেলে দিব ব্যাপারটা এরকম না আমাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই ডোমেইন এর বয়স টাও একটা ফ্যাক্টর। তবে ডোমেইন এর বয়স বেশি থাকা মানেই যে গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে রাঙ্কিং দিবে, এমনটি নয়. কিন্তু যদি ২টি ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট এর বিষয় একই হয় এই ক্ষেত্রে যে ওয়েবসাইট এর বেশি বয়স সেটিকে বেশি প্রাধান্য পাবে।

টপ লেভেল ডোমেইন: আমরা যদি ডোমেইন এর দিকে তাকাই তাহলে আমরা ২ ধরণের ডোমেইন দেখতে পাই। যথা: Top level domain(TLD), Second level domain(SLD)। এই দুই ধরণের ডোমেইন এর মধ্যে টপ লেভেল ডোমেইনকে rank এর দিক দিয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সুতরাং আমরা সবসময় টপ লেভেল ডোমেইন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। টপ লেভেল ডোমেইনের মধ্যে .com ডোমেইন এর অবস্থান সবার প্রথমে। নিচের এই গুলোর বাইরে যে সকল ডোমেইন আছে, সব গুলোই সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন হিসাবে গণ্য করা হয়। টপ লেভেল ডোমেইন কোনগুলো, সেগুলো নিচে দেয়া হলো:

দেশের টপ লেভেল ডোমেইন: এধরনের ডোমেইন গুলা মূলত লোকাল SEO এর ক্ষেত্রে, লোকালি ranking করার সময় বেশি অগ্রাধিকার পায়। কিন্তু আবার গ্লোবাল SEO এর সময় rank এর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পায় না। আপনি যদি স্থানীয় কোন এরিয়া basic করে এসইও করতে চান বা কোনো সার্ভিস provide করেন তাহলে এই ধরনের ডোমেইন গুলো আপনার জন্য বেস্ট। কিন্তু যখন আপনি গ্লোবালি সাইট কে rank করাতে চান তখন এই ধরণের ডোমেইন গুলো না নেয়াই ভালো। কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন বলতে বোঝানো হচ্ছে এই ধরণের ডোমেইন গুলোকে যথা:- .com.bd, .com.uk, .com.ac, .com.us etc.

পাবলিক WHO.IS: সর্বদাই আপনার ওয়েবসাইটটি পাবলিক করবেন। এর ফলে গুগল বা সার্চ ইঞ্জিন এটিকে ভালো চোখে দেখে আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য। সুতরাং এটি করে আপনি রাখতে পারেন।

Spammer Who.Is Owner: এটি হচ্ছে একটি হোস্টিং এর আন্ডারে যদি কয়েকটি ডোমেইন খোলা থাকে এবং সেগুলো ডোমেইনের মধ্যে যদি একটি ডোমেইন স্প্যামার হিসেবে গুগোল ধরতে পারে তাহলে এর প্রভাব অন্যগুলোতো পড়বে। এটিও একটি সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর

Content Factors:-

আমরা জানি যে, একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্টটি হচ্ছে কিং। তাই কনটেন্ট এর উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। চলুন এর সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর আপডেট গুলো জেনে আসি।

আর্টিকেল এর মান:

  • সঠিক তথ্য, রিপোর্ট, রিসার্চ এন্ড Analysis করে আর্টিকেল make করতে হবে। তার মানে সবাই তো ওয়েব এ লেখালেখি করে, অসংখ্য মানুষের ব্লগ আছে, এইগুলোর মধ্যে করা ranking পাবে। একদম স্পষ্ট যে, যারা ভালো তথ্য, রিপোর্ট, রিসার্চ এন্ড Analysis করে সুন্দর ভাবে মানুষের কাছে কনটেন্ট লিখবে। অর্থাৎ আমি যে পড়তে আসছি বা জানতে এসেছি, একটা ওয়েবসাইট থেকে পুরোপুরি ভাবে আমি যদি এই বিষয়টি জানতে পারি তখন সেটা যে কোনো সার্চ ইঞ্জিন ভালো দৃষ্টিকোণ হিসাবে নেয় এবং সেই সাইটকে সার্চ ইঞ্জিন rank করে তাদের SERPs এ ।
  • সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরিভাবে বিষয় বস্তু কনটেন্ট এ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ভিজিটর যা চায় তা পুরোপুরি পেয়েছে কিনা বা কনটেন্ট টি ইউজার ফ্রেন্ডলি কিনা ।
  • নানান ধরণের সাইট থেকে কিছু কিছু ইনফরমেশন নিয়ে বা rewrite না করে তথ্যবহুল নিউ কনটেন্ট খুবই কার্যকরী। যেমন আমি যদি 4 বা 5 জনের আর্টিকেল থেকে আইডিয়া নিয়ে ওইখান থেকে আমার মত করে লিখে দিলাম এটা ভালো কিন্তু আমার কাছে নতুনত্ব কিছু থাকবে না বা  গুগোল আমাকে কিসের ভিত্তিতে প্রায়োরিটি দিবে, যদি আমার কনটেন্ট টি  অন্যদের মতো হয়। আমারটা যদি একটু ব্যতিক্রম না হয়, ইউজার ফ্রেন্ডলি না হয়,  নতুন নতুন তথ্যগুলো অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ  আলাদা না থাকলে, আপনার কনটেন্টটি রাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে বেশি সুযোগ পাবে এইটা সম্পূর্ণভাবে বলা যাবে না।
  • কনটেন্ট এর হেডিং এবং ডেসক্রিপশন এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ কনটেন্ট এর সারাংশ ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে। অর্থাৎ এগুলো দেখেই যেন একজন ইউজার বুঝতে পারে কন্টেন্টটি কিসের উপর লেখা।
  • অবশ্যই ভিজিটরদের ফোকাস করেই টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন লিখতে হবে। রোমাঞ্চকর বা অদ্ভুত টাইপের উপর লেখা যাবে না। অবশ্যই কনটেন্ট এর সাথে রেলেভান্সি থাকতে হবে। যেমন নিউজ পোর্টালে ঢুকলে আপনারা দেখতে পারবেন এই ধরণের উদ্ভট টাইপের টাইটেল। এই ধরনের কনটেন্ট গুগল কোন কারনে জেনে ফেললে ওই কনটেন্টকে কখনোই rank দিবে না। 
  • আপনার ওয়েবসাইট এর কোনো পেজ বা কনটেন্ট মানুষ তাদের browser এ বুকমার্ক করতে পছন্দ করে কিনা। কোনোপেজ বুকমার্ক করা, গুগল সেটি পজিটিভলি দেখে।
  • আপনার সাইটটি বড় বড় সাইটগুলোতে রেফারেন্স পাওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে rank পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

দক্ষতা:

আপনি যে ব্যাক্তিকে দিয়ে কনটেন্ট লিখাবেন তিনি সেই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ভালোভাবে জানে কিনা, তিনি সঠিক তথ্য দিতে এবং কতটুকু জ্ঞান রাখেন এ সম্পর্কে এবং ভুল তথ্য রয়েছে কিনা। যেমন আপনি যদি একটি বিল্ডিং তৈরির কনটেন্ট লিখেন তাহলে আপনি যতটা না জানেন তার চেয়ে একজন বিল্ডিং তৈরির মিস্ত্রী এর চেয়ে বেশি জানবে। সুতরাং যে যেই বিষয়ে দক্ষ তার সেই বিষয়ে লিখা উচিত।

আর্টিকেল বা কনটেন্টের উপস্থাপনা

  1. একটি ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট এর বানান গুলো অবশ্যই শুদ্ধ আকারে হতে হবে।
  2. কনটেন্টটি খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে।
  3. আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই AMP(Accelerated Mobile Pages) কিনা অথবা 4. ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ কিনা, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
  4. আমাদের ওয়েবসাইটের মধ্যে অনেক বেশি অ্যাড শো করে দেওয়া যাবেনা। বেশি অ্যাড থাকলে, যেটা ভিজিটরের কাছে বিরক্ত কর মনে হয়। 

আর্টিকেল তুলনা:

  1. কনটেন্ট তুলনা হচ্ছে আমরা যদি অন্যান্য পেজের সাথে তুলনা করি বা অন্যান্য কনটেন্ট এর সাথে তুলনা করি, সেই দিক থেকে কি আমার কনটেন্ট আলাদা কি না, এটা মাথায় রাখতে হবে। অর্থাৎ আমার পাঁচজনের মতো কনটেন্ট হলে হবে না অন্যদের থেকে আমি কি এক্সট্রা অ্যাড করেছি, সেটা কিন্তু আমাকে দেখতে হবে।
  2. আপনি যদি ভিজিটরের ইচ্ছা পূর্ণ করে আর্টিকেল লিখতে পারেন, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন এরও ইচ্ছা পূর্ণ হয়ে যায়।

উপরের সবগুলো বিষয় গুগোল কোর অ্যালগরিদম আপডেট মে মাসের 2020 এ প্রকাশিত হয়। যা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে।

ইএটি  ক্রাইটেরিয়া(E-A-T criteria)

E-A-T হল একটি সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর যা একটি ওয়েব পৃষ্ঠার সামগ্রিক গুণমান মূল্যায়ন করতে ব্যবহার করা হয়। E-A-T এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে Expertise, Authoritativeness, and Trustworthiness। আর অবশ্যই কনটেন্টের ক্ষেত্রে আপনাকে এই নির্ণায়ক গুলো মানতে হবে।

Expertise

Expertise মানে হচ্ছে একজন ব্যাক্তি একটি কনটেন্ট লিখলো তার ওয়েবসাইট এ পাবলিশ করার জন্য একটি টপিক এর উপর, সেই ব্যাক্তির সেই বিষয়ের উপর গভীর দক্ষতা ও এক্সপেরিয়েন্স আছে কি না।

Authoritativeness

Authoritativeness মানে হচ্ছে যে যেই বিষয়ে লিখবে, সে বিষয়ে তার অথরিটি আছে কিনা। যেমন আমাকে যদি বলেন এসইও নিয়ে কনটেন্ট লিখতে, তাহলে আমি অবশ্যই লিখতে পারবো কারণ আমার এই বিষয়ের উপর অনেক knowledge আছে।  সুতরাং এই বিষয়ের উপর আমার  Authoritativeness আছে। আমাকে যদি COVID-১৯ সম্পর্কে লিখতে বলে তাহলে কি আমি এই এই বিষয়ে লিখতে পারবো , অবশ্যই পারবো না। সুতরাং এই বিষয়ে আমার Authoritativeness নাই,Authoritativeness আছে ডক্তর এর। সুতরাং Authoritativeness খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এককথায় যে যাই ব্যাপারে ভালো জানে, যার যেই ব্যাপারে উপর Authoritativeness  আছে, তাহলে সে যদি সেই ব্যাপারে উপর লিখে, সেটা গুগল অনেক বেশি পছন্দ করে। যাকে বলা হয় Authoritativeness ।

Trustworthiness

যখন কোনো একটি ওয়েবসাইট কোনো ব্যাক্তি তথ্য প্রদান এন্ড লেনদেন এর বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে তখন তাকে Trustworthiness বলে। আমরা যখন একটি ওয়েবসাইট এ আসি তখন যদি সেই ওয়েবসাইট এর SSL না থাকলে সেই ওয়েবসাইট বিশ্বাসযোগ্য না। অর্থাৎ সিকিউরিটি ভালো না। এক্ষেত্রে SSL না থাকলে আমরা ধরে নেই যে এই ওয়েবসাইটি আমাদের কখনো ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, বিকাশের পিন নাম্বার সিকিউরিটি কোড ব্যবহার করা উচিত না।

Website factors/Technical SEO ranking factors

এক্সএমএল সাইটম্যাপ(XML Sitemap): এটি একটি ওয়েবসাইট এর সূচিপত্র বা পথনির্দেশিকা বলা যেতে পারে। যার মানে হচ্ছে আপনার সাইট এর পোস্ট এবং পেজ এ একটি লিস্ট, যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজে সেগুলো ইনডেক্স করতে পারে।

মোবাইল ফ্রেন্ডলি: অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটকে মোবাইল ফ্রেন্ড হতে হবে। নয়তো মোবাইল ইউজাররা সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটটি প্রাথমিকভাবে খুঁজে পাবে না আপনার সাইট rank করলেও।

সাইট আর্কিটেকচার(Site architecture): সাইটের আর্কিটেকচার ভালো ভাবে সাজাতে হবে। আর্কিটেকচার হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের সামগ্রীকে অর্গানিক ভাবে সাজানো। তাই এটি ভালোভাবে সাজাতে হবে।

এসএসএল সার্টিফিকেট(SSL certificate): একটি সাইট এর এসএসএল সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিকিউরিটির নিশ্চয়তার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

বাউন্স রেট(Bounce rate): এটি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে যদি ইউজার বেশী সময়ে স্পেন্ড করে তাহলে আপনার বাউন্স রেট ভালো থাকবে। আর যদি কম সময় আপনার ওয়েবসাইটে  স্পেন্ড করে থাকে তাহলে এটি আপনারই জন্য খারাপ। সুতরাং কোয়ালিটি কনটেন্ট লিখবেন তাহলেই ইউজারকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারবেন আপনার সাইটে। এটি গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর।

ব্রোকেন লিংকস(Broken Links): একটি ওয়েবসাইট এর পৃষ্ঠায় অনেক গুলো লিংক থাকলে এটিকে গুগল অবহেলিত বা পরিত্যক্ত সাইটের লক্ষণ হিসাবে গণ্য করে। সুতরাং সাইট এ লিংক থাকলে সেইটি removed অথবা পার্মানেন্টলি রিডাইরেক্ট করে দিতে পারেন।

গুগল সার্চ কনসোল বা ওয়েবমাস্টার টুলস: অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স করার জন্য প্রথমত গুগল সার্চ করলে আপনার ওয়েবসাইটটি সাবমিট করতে হবে। তাছাড়া, আপনি আপনার ওয়েবসাইট সাবমিট না করলে যদি কোন সমস্যা হয়, তা খুঁজে বের করতে পারবেন না। তাই এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অনেক কিছু দেখতে পারবেন।

Page speed: আমাদের ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড যেন অবশ্যই কম হয়। তা না হলে কোনো ভিসিটর সাইট এ আসলে, সে ওয়েবসাইট লোড নেয়ার পূর্ব চলে যাবে। 

মোবাইলে ব্যবহারযোগ্যতা: আপনার ওয়েবসাইটটি যেন মোবাইলেও সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সুতরাং মোবাইল যেন ভালোভাবে প্রদশিত হয়।

কোর ওয়েব ভাইটালস(Core Web Vitals): এই ranking ফ্যাক্টর আপডেটটি মূলত 2021 সালে এসেছে যা “কোর ওয়েব ভাইটালস” নামে পরিচিত। কোর ওয়েব ভাইটাল আপনার ওয়েবসাইটের পেজের একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার পরিমাপ করে। এদের মধ্যে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • LCP: এটির পূর্ণ রূপ হচ্ছে Largest Contentful Paint । এটার মানে একটি পেজে দৃশ্যমান উপাদানগুলি লোড হতে কতক্ষণ সময় লাগে।
  • FID: এটির পূর্ণ রূপ হচ্ছে First Input Delay । এটার মানে আপনার সাইট এ প্রথম ক্লিকে বা পেজে আলতো চাপ দেয়ার পর আপনার পৃষ্ঠার কতক্ষণ সময় লাগে।
  • CLS: এটির পূর্ণ রূপ হচ্ছে Cumulative Layout Shift । এটার মানে একটি পৃষ্ঠার সমগ্র বিষয়ে ঘটে যাওয়ার প্রতিটি অপ্রত্যাশিত লেআউট শিফটের জন্য, লেআউট শিফট স্কোরের টোটাল একটি পরিমাপ।

যে কোনো সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টরগুলো সব সময় আপনার ওয়েবসাইট এ ইমপ্লিমেন্ট করার চেষ্টা করবেন তাহলেই ভালো একটি SERP এ ভালো পজিশন নিতে পারবেন।

On-page SEO Factors

আমি আমার ওয়েবসাইটের মধ্যে যে কাজ গুলো করবো সবগুলোই হচ্ছে এসইও র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। দেখে নেয়া যাক, অনপেজ এসইও সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলো কি কি-

টাইটেল এর মধ্যে কীওয়ার্ড: অবশ্যই টাইটেল এর মধ্যে আপনার মেইন কীওয়ার্ড টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, আপনার মেইন কীওয়ার্ড যেন টাইটেল এর শুরুর দিকে থাকে এবং তারপর বাকি গুলো রাখতে পারেন।

হেডিং ট্যাগ এ কীওয়ার্ড: একটি সাইটের একটি পৃষ্ঠার অনেক ধরণের হেডিং ট্যাগ থাকে। যেমন H1, H2, H3, H4, H5 and H6। প্রথম ৩টি ট্যাগ এ আপনার কীওয়ার্ড টি রাখতে হবে। 

ডেসক্রিপশন এর মধ্যে কীওয়ার্ড: মেটা ডেসক্রিপশন হচ্ছে কোন কনটেন্ট এর সারাংশ। যখন আপনি আপনার এই অংশে ফোকাস কীওয়ার্ড টি রাখবেন, এর মানে এই আর্টিকেলটি সামঞ্জস্যপূর্ণ অথবা প্রাসঙ্গিক হিসাবে গণ্য করা হবে। অবশই মেটা ডেসক্রিপশনে শুরুর দিকে কীওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করবেন। এটি একটি বেস্ট প্রাকটিস। 

পার্মালিংক এর মধ্যে কীওয়ার্ড: পার্মালিংক এ আপনার মেইন কীওয়ার্ডটি রাখা মানে, আপনি রাইট প্লেস এ আপনার কীওয়ার্ড টি রাখছেন। এর ফলে এটিকে প্রাসঙ্গিক সিগন্যাল হিসাবে গণ্য করা হয়।

আর্টিকেল এর মধ্যে LSI কীওয়ার্ড: LSI এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে Latent Semantic Keywords । এর মানে হচ্ছে আপনার মেইন কীওয়ার্ড এর সমার্থক শব্দগুলো কীওয়ার্ড হিসাবে কনটেন্ট এ ব্যাবহার করা।

কীওয়ার্ড H1 ট্যাগের মধ্যে: অবশ্যই আপনার কীওয়ার্ডটি H1 ট্যাগের মধ্যে রাখতে হবে এবং সেটা অবশ্যই হতে হবে শুরুর দিকে। এটি একটি উত্তম চর্চা এসইও এর জন্য যা একটি অন পেজ SEO গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। 

বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা: আপনি আপনার কনটেন্ট এর মধ্যে কোনো একভাবে বেশি কীওয়ার্ড ব্যবহার করলেন। যার মানে দাঁড়ায়, আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি কে পেনাল্টি এর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সুতরাং গুগল এটিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে, এটিকে over optimized ও বলা হয়। Keyword density ঠিক রেখে কীওয়ার্ডগুলো বসাবেন।

কীওয়ার্ড প্রমিনেন্স: আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট এর প্রথম শত  শব্দ এর মধ্যে ফোকাস কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। 

লিংক কোয়ালিটি: আপনার ওয়েবসাইট এ থাকা আর্টিকেলটির সাথে আরো তথ্যবহুল আর্টিকেল রেফারেন্স করার জন্য ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করতে হবে। অবশ্যই এই সব লিংক এ কোয়ালিটি যেন ভালো হয়।

কনটেন্ট আপডেট করা: সবসময় আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্টকে আপডেট করতে হবে ম্যানুয়ালি, মনে আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট এ আরো এক্সট্রা কিছু কনটেন্ট এড করতে হবে। 

ডুপ্লিকেট কনটেন্ট: আপনি যদি কারো কনটেন্ট আপনার ওয়েবসাইট এ পাবলিশ করেন, তাহলে সেই কনটেন্টকে গুগল ডুপ্লিকেট কনটেন্ট হিসাবে নেয়। এটি ফলো করলে আপনি কখনো রাঙ্ক পাবেন না। 

Rel=Canonical : ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ ব্যবহার করা হয় একটি ওয়েবসাইট এর ওয়েবপেজকে নির্দিষ্ট করে দেয়া সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য। শুধু মাত্র ঠিকানা হিসাবে। 

ধরুন, আপনি যে সকল আর্টিকেল লিখেছেন সেগুলোতে আপনি যদি ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ ব্যবহার না করেন। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটে যদি এ ধরনের কোন একই আর্টিকেল একাধিক বার থেকে থাকে তাহলে দুই আর্টিকেলকে ডুপ্লিকেট ধরে এই দুটি সাইটকেই পেনাল্টি দিতে পারে। সুতরাং ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। এই সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর টি একটি ইমেজ এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

Table of Contents ব্যবহার করা: Table of Contents  ব্যবহার এর মাধ্যমে আপনার পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু আরও সুন্দর এবং ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং টেবিল অফ কন্টেন্টস ব্যবহার করবেন।

AMP ব্যবহার করা: AMP সম্পূর্ণ রূপ হচ্ছে Accelerated Mobile Pages । আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফোনে, ট্যাবলেট  এ ভালোভাবে প্রদর্শন হওয়ার জন্য AMP ব্যবহার করতে হবে। নতুবা, আপনার ওয়েবসাইট মোবাইল অথবা ট্যাবলেটে ভালোভাবে প্রদর্শিত হবে না। 

ইমেজ অপটিমাইজেশন: ইমেজ অপটিমাইজেশন বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ranking ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। সার্চ ইঞ্জিনকে ফাইলের নাম, অল্ট টেক্সট, শিরোনাম, বিবরণ এবং ক্যাপশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিকতার সংকেত পাঠায়। যার ফলে এটি খুব সহজে গুগল চিনে ফেলে। 

কনটেন্ট লেংথ(Content length): Content এর দৈর্ঘ্য অবশ্যই অনেক বড় হলে ভালো হয়, এবং তার সাথে কনটেন্ট এর কোয়ালিটি যেন ভাল হয়।

ব্রেডক্রাম্ব ন্যাভিগেশন(Breadcrumb Navigation): এটি একটি আর্কিটেকচারের একটি স্টাইল এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি। সুতরাং এটি আপনার সাইট এ করে রেখবেন।

Off-page SEO Factors

ব্যাকলিংক ডোমেইনের বয়স: প্রথমে আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে যে আপনি যেসব সাইটে ব্যাকলিংক করতে চান সেই সকল সাইট এর সাইটের বয়স কতটুকু? তারপর দেখে, বুজে সেই সব সাইট এ ব্যাকলিংকস করতে হবে। মানে হচ্ছে ব্যাকলিংক কৃত ওয়েবসাইট টি কত পুরনো। সুতরাং বয়স বেশি হলে ভালো হয়। 

লিংকিং ডোমেইনের ও পেজের সংখ্যা: কতগুলো ওয়েবসাইট বা ডোমেইন থেকে একটা সাইট লিংক পেয়েছে, সেটাই হচ্ছে লিঙ্কিং ডোমেইন। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটের  অথোরিটি বৃদ্ধি পাবে যা অন্যদের থেকে আপনি এগিয়ে থাকবেন। লিঙ্কিং পেজের সংখ্যা হচ্ছে আপনার সাইটের দিকে নির্দেশিত পৃষ্ঠাগুলির(URL) পরিমাণ।

ব্যাকলিংকের ডোমেইন অথোরিটি: যেসকল পেজ বা ডোমেইন এর অথোরিটি(DA) বেশি, সেই সকল ওয়েবসাইট থেকে আমাদের ব্যাকলিংক নিতে হবে। যার ফলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন এ rank এর  দিক দিয়ে এগিয়ে থাকবেন।

রিলেটেড লিঙ্কিং: যে ওয়েবসাইট থেকে আপনি ব্যাকলিংক তৈরি করতে চাচ্ছেন, সেই ওয়েবসাইগুলো প্রাসঙ্গিকতা বহন করে কি না আপনার ওয়েবসাইট এর সাথে। সবসময় রিলেভেন্ট সাইট থেকে ব্যাকলিংক নেয়ার চেষ্টা করবেন। এর ফলে আপনি এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন অন্যদের থেকে।

ব্যাকলিংক টাইপ: আমরা জানি ব্যাকলিংক ২ ধরণের হয়। নো ফলো এন্ড ডু ফলো। আমরা জানি এই দুই ধরণের লিংক আমাদের প্রয়োজন ওয়েবসাইট এর জন্য। ডু ফলো ব্যাকলিংক এর ফলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ কিছু লিংক জুসেস পাস হবে এবং এর ফলে আপনার ওয়েবসাইট এর পাওয়ার বেড়ে যাবে। অন্য দিকে নো ফলো ব্যাকলিংক এর ফলে আপনি অনেক ভিসিটর নিয়ে আসতে পারবেন। সুতরাং দুটি লিংক আমাদের খুব প্রয়োজন। 

খারাপ লিঙ্ক: আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন খারাপ ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক না তৈরি করা। যদি আপনি তৈরি করেন, এর ফলে যদি ওই ওয়েবসাইট প্যানাল্টি তে পড়ে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটিও প্যানাল্টি তে পড়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে।

ন্যাচারাল লিংক: সব সময় চেষ্টা করবেন ম্যানুয়াল ভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করার। কোন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না।

ব্যাকলিংক 301 রিডাইরেক্ট থেকে: 301 রিডাইরেক্ট ব্যাকলিংক গুলো খুব পাওয়ার ফুল হয়। চেষ্টা করবেন এই ভাবে ব্যাকলিংক নিয়ে আসার।

আজকে মূলত এগুলোই ছিল 200 টা সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং এগুলো সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর ফলো করলে আপনার ওয়েবসাইটটি সহজেই আপনি rank করতে পারবেন।

By Blogger Ujjal

Ujjal is a professional blogger from Bangladesh. He has been working as a blogger for 3 years. He loves this sector and tries to publish different types of content.

Leave a Reply

Your email address will not be published.