আপনার-ওয়েবসাইটে-হেডিং-কিভাবে-ব্যবহার-করবেন

একটি ওয়েবসাইট এর হেডিং আমাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে থাকে। যেমন: এটি ব্যবহারের ফলে কোনো একটি ইউজার সহজেই বুঝে যায় যে এই কনটেন্টটি কিসের উপর লেখা এবং এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও খুব সহজ হয়ে যায় বুঝা এবং সার্চ ইঞ্জিনের বটগুলোর জন্যও আপনার ওয়েবসাইট ক্রল করা সহজ হয়ে। হেডার ট্যাগগুলি ব্যবহারের ফলে, rank এর দিক দিয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখে।

হেডার ট্যাগ মূলত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। আমরা জানি, হেডার ট্যাগ ১ম থেকে ৬ম পর্যন্ত হয়। এই গুলোকে মূলত এইভাবে চিহ্নিত করা হয়। যথা- H1, H2, H3, H4, H5, H6। কনটেন্ট এর মধ্যে এই হেডার ট্যাগগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হয়। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিনকে সুস্পষ্ট তথ্য তথ্য প্রদান করে এবং গুরুতরভাবে এইগুলো সার্চ রেজাল্ট এর এসইও ফলাফল উন্নত করে। এই আর্টিকেল এ আমরা আপনাকে হেডার সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং আপনার কনটেন্ট readability উন্নত করতে, এবং এসইও ফলাফল উন্নত করতে H1 ট্যাগ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তার ব্যবহার করতে শিখাবো।

কোন হেডিং ট্যাগগুলি ব্যবহার করবো?

আগেই বলা হয়েছে যে, হেডিং ট্যাগ মূলত একটি সাইনপোস্ট হিসাবে কাজ করে। যা ভিসিটরদের গাইড করে এবং ভিসিটর সহজেই যেন বুঝতে পারে কনটেন্টটি কিসের উপর। এই গুলো ব্যবহার না করলে ভিসিটর বুঝতে পারবে না কনটেন্ট টি কিসের উপর লিখা। যখন কোনো ভিসিটর আপনার ওয়েবসাইট এ আসে তখন ভিসিটর ২ বিষয় করতে পারে। যথা:- কনটেন্ট টি কী সম্পর্কে এটি ধারণা পেতে এবং কনটেন্ট এর কোন বিভাগগুলি তারা পড়বে তা নির্ধারণ করতে।

সুতরাং একটি কনটেন্ট এ হেডিং ট্যাগ মূলত এইগুলো করতে সাহায্য করে। কনটেন্ট টি বুঝতে পারা আপনার ভিসিটরদের জন্য কঠিন হয়ে যায়, যখন কনটেন্ট এ কোনো হেডিং ট্যাগ থাকে না। এটি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন আপনি একটি হেডিং ট্যাগ এর পরে কনটেন্ট এর দীর্ঘ প্রসারিত যোগ করেন। যার ফলে ভিসিটর বিরক্ত অনুভব করতে পারে।

মনে রাখবেন, আপনার হেডিং গুলো ভিসিটরদের কাছে তথ্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করা একটি ভাল অনুশীলন। এবং তাছাড়া হেডিংগুলোর মূল ফোকাস বিষয়বস্তুর উপর হওয়া উচিত, এর ফলে ভিসিটর যেন খুব সহজেই কনটেন্ট টি পড়তে এবং বুঝতে পারে।

তাছাড়া নিচের এই দুটি বিষয় সর্বোচ্চ মনে রাখার চেষ্টা করবেন। যথা:- সবসময় চেষ্টা করবেন একটি অনুচ্ছেদ এ একটি মূল বাক্য দিয়ে শুরু করা প্রয়োজন। যার উপর আপনি বাকি অনুচ্ছেদে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করবেন। শিরোনাম যোগ করার জন্য আপনার কনটেন্ট টি লেখার সময়, আপনার অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যটিতে যেন সেই অনুচ্ছেদের প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। আর অন্যটি, আপনার অনুচ্ছেদে তথ্যগুলো কীভাবে তৈরি বা লেখা হয়েছে, অনুচ্ছেদের মধ্যে কী সম্পর্ক এবং কীভাবে একটি সাবহেডিং মধ্যে সেই কনটেন্ট টির তথ্যকে সহজে লেখা যায় কি না তা বিবেচনা করা।

1. টেক্সট স্ট্রাকচার ভালো ভাবে দেখানো

আমরা অনেক সময় দেখি যে, স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের মতো ছোট পর্দায় আমাদের কনটেন্ট এর টেক্সট গুলো ছোট হয়ে যায়, যা একজন ভিজিটর এর কাছে বিরক্তকর। তাই সেই সব ভিসিটর যেন স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট এ খুব সহজেই পড়তে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত ভিজিটর দের বেশি প্রাধান্য দেয়া, তার যেন খুব সহজেই বুঝতে পারে কনটেন্ট এর কোন পার্ট গুলো তাদের প্রয়োজন অথবা প্রাসঙ্গিক। সুতরং আমাদের এই দিকে খেয়াল রাখা দরকার।

2. কনটেন্ট এর অ্যাক্সেসযোগ্যতা উন্নত করা

একটি ওয়েবসাইট এর একটি ওয়েবপৃষ্ঠার শিরোনাম এর ফলে উত্তমভাবে অ্যাক্সেসযোগ্যতা উন্নত করে ফেলে। কারণ শিরোনাম এর স্ট্রাকচার অ্যাক্সেসযোগ্যতা জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধরুন, একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিজিটর যখন আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে, তখন সেই সময় সে অবশ্যই স্ক্রীন রিডার ব্যবহার করবে। কারণ এটি ছাড়া সেই ভিজিট সহজেই আপনার কনটেন্ট পড়তে পারবে না। স্ক্রীন রিডার যে কোনো এইচটিএমএল কোড সহজেই পড়তে সক্ষম। যেহেতু, শিরোনামগুলো HTML দিয়ে make করা তাই স্ক্রীন রিডার বুঝতে পারে এবং উচ্চস্বরে এই গুলো পড়তে পারে। যখন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিজিটর এটি শুনবে তখন সে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যে কনটেন্ট টি পড়বে কি পড়বে না। অবশ্যই মনে রাখা উচিত, কনটেন্ট এর অ্যাক্সেসযোগ্যতা যত ভালো, তা এসইও এর জন্যও তত ভালো।

3. শিরোনাম ব্যবহারের ফলে SEO উন্নত করা

শিরোনামগুলো ব্যবহারে আপনি আপনার এসইওকে উন্নতি করতে পারেন। আমার জানি যে, এটি একটি র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। সুতরাং এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা জানি। শিরোনাম ব্যবহারের ফলে ভিজিটরের জন্য পড়া খুব সহজ হয়। যখন ভিজিটর আপনার কনটেন্ট এ আসে তখন ভিজিটর যদি তার মেইন বিষয়টি দ্রুত খুঁজে না পেলে, ভিজিটরা আপনার সাইট থেকে বের হয়ে যাবে। এবং অন্য ওয়েবসাইট এ তার প্রশ্নের answer টি খুঁজবে। তাই টেক্সট স্ট্রাকচার এবং হেডিং ব্যবহারে এসইওকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। অন্যদিক থেকে, যখনই আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যাবে তখন সার্চ ইঞ্জিন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে, আপনার সাইটে যেসব ভিজিটর আসে তারা আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভালো ফলাফল পায় না। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে ভালো মনে হবে না। যার ফলে আপনি রেটিং এর দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়তে পারেন। যেটি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য খুবই খারাপ। সুতরাং কোনো ওয়েবপেজ এর শিরোনাম এবং ভিজিটরকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

আমরা হেডিংগুলিতে কীভাবে গুড প্রাকটিস ব্যবহার করতে পারি?

আমরা অনেকই আছি, যারা বুঝতে পারতেছি না হেডিংগুলো কিভাবে ব্যবহার করবো বা এই গুলো ব্যবহার করার সেরা উপায় কি, এই ধরনের অনেক প্রশ্নই আমাদের মনে আসতেছে। আমরা জানি হেডিং ট্যাগ এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্যাগ H1 । সুতরাং আমরা এইখানে দুটি বিষয়(গুড প্রাকটিস)করতে পারি। প্রধমত, আমাদের ওয়েবসাইট এর ওয়েবপেজ এর হেডিং গুলো ভালোভাবে গঠন করতে পারি। আর দ্বিতীয়ত, সেগুলিতে আমরা কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারি। এটি করলে আপনি অন্যদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের জন্য খুব সহজ এটি করা কারণ অনেক প্লাগিন আছে যা দিয়ে সহজেই করা যাই। প্লাগিন এটি করতে সাহায্য করে। সেইসব প্লাগিন অটোমেটিক আপনাকে বলে দেবে আপনি হেডিং এ কীওয়ার্ড ব্যবহার করছেন কিনা।

Heading গুলো ধারাবাহিক ভাবে ব্যবহার করবেন। অবশ্যই H1 ট্যাগ এর মাধমে শুরু করতে হবে। এবং একটি পেজ এ H1 একটিই রাখতে হবে। আর বাকি গুলো কয়েকটি রাখতে পারেন। হেডিং যদি দীর্ঘ হয় তাহলে আপনি H5 বা H6 ব্যবহার করতে পারেন। আপনার পেজ এর বিষয়বস্তুকে এমন ভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন, যার ফলে ভিজিটর খুব সহজেই সব কিছু বুঝতে পারে। মনে রাখবেন, শুধু SEO ভালো করার জন্য হেডিং ব্যবহার করবেন না। ভিজিটরদের জন্য হেডিংগুলো অপ্টিমাইজ আকারে তৈরি করবেন যা স্পষ্টতা নিশ্চিত করে।

নিচে একটি উদাহারণ এর মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি:

H1: মেডিটেশন কি?

H2: কেন মেডিটেশন করবো??

    H3: কষ্ট বোঝার জন্য 

    H3: ফোকাস উন্নত করার জন্য

    H3: মানসিক চাপ কমানোর জন্য

H2: Meditate কিভাবে করে?

  H3: আসনগ্রহণ করে

  H3: একটি সময়সীমা সেট করুন

এই খানে আমি ভাবে উদাহরণ দিছি, সেই ভাবে আমরা একটি অর্গানিক ওয়েতে হেডিং গুলো অ্যাড করতে পারি আমাদের ওয়েবসাইট এর একটি নির্দিষ্ট পেজ এ।

পরামর্শ

এই কনটেন্ট এ আমরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তা আপনি ভালোভাবে বুজতে পারছেন। যখনই আপনি এই প্রসেস অনুসরণ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট পেজ এ হেডিং গুলো যুক্ত করতে পারেন। অনেক সময় বিভিন্ন বেস্ট প্রাকটিস আমরা অনুসরণ করি না এর ফলে আমাদের পেজ এ SEO প্রব্লেম থেকে থাকে। সুতরাং আপনি এই ভাবে হেডিং গুলো অ্যাড করতে পারেন।

By Blogger Ujjal

Ujjal is a professional blogger from Bangladesh. He has been working as a blogger for 3 years. He loves this sector and tries to publish different types of content.

Leave a Reply

Your email address will not be published.