ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা

আজকের এই কনটেন্ট এ আমরা আলোচনা করবো যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান বা এই সেক্টর এ কাজ করতে চান একজন ফ্রীলান্সার হিসেবে তাহলে আপনকে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বেসিক বিষয়গুলো জানতে হবে(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। আশা করি যারা নতুন ডিজিটাল মার্কেটিং এ নতুন শেখার চেষ্টা করতেছেন তাদের জন্য এই আজকের কনটেন্টটি খুব কাজ এ আসবে। বেগিনের হিসেবে অনেকেই অনেক সময় নষ্ট করে শুধু মাত্র সঠিক গাইড লাইন পাওয়ার জন্য। তাদের কথা মাথায় রেখে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর গুরুত্বপূর্ণ বেসিক কিছু নিয়ে কনটেন্টটি লেখা। সুতরাং শুরু করা যাক-

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

এক কথায় বলতে গেলে, ডিভাইস এর উপর ভিত্তি করে অনলাইন এ যে মার্কেটিং করা হয় তা হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। অথবা আপনি যখন কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের ডিভাইসে পৌঁছে যেতে চান তখন যে মার্কেটিং টা করতে হয় সেটি ডিজিটাল মার্কেটিং(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। সুতরাং এটি একটি ডিভাইস basic মার্কেটিং।

আপনার কাছে যদি কোন ডিভাইস না থাকে তাহলে আপনি সেই মার্কেটিং টি বিভিন্ন প্লাটফর্ম এ করতে পারবেন না যার ফলে আমাদের ট্রাডিশনাল মার্কেটিং করতে হয়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রাডিশনাল মার্কেটিং 

এই পার্ট এ আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রাডিশনাল মার্কেটিং এর মধ্যে এদের পার্থক্যটি বোঝার চেষ্টা করবো। আমরা ভালো মতো খেয়াল করলে দিকবো যে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রাডিশনাল মার্কেটিং এই ২টি বিষয় কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ট্রেডিশনাল মার্কেটিং হচ্ছে এরকম আপনি একটি কোম্পানি ওপেন করেছেন। কোম্পানিটি ওপেন করার পরে ধরুন ২০০০ বা ৩০০০ পোস্টার তৈরি করেছেন এবং এই গুলো বিভিন্ন মানুষদের দিচ্ছেন। এইখানে আপনি কিন্তু জানেন যে আপনি শুধু এই পোস্টার গুলো  ২০০০ বা ৩০০০ মানুষকেই দিতে পারবেন। আপনার কাছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে আপনি কত টুকু রেজাল্ট পাবেন তা কিন্তু আপনি জানেন না। যে ২০০০ বা ৩০০০ মানুষ এর মধ্যে কত জন মানুষ কাস্টমার এ কনভার্ট হয়েছে। এটার কোনো রিয়েল টাইম রেজাল্ট নাই। 

আর আমরা যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এ দেখি তাহলে আপনি যখন কোনো কিছু বুস্ট করেন বা পেইড প্রমোশন করেন বিভিন্ন চ্যানেল বা প্লাটফর্ম এ তখন কিন্তু আপনি অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারতেছে না। এই মার্কেটিং টি হতে  পারে পেইড বা অর্গানিক(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। আর সাথে সাথে আপনি ডিজিটালাইজ প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে একটি রিয়েল টাইম রেজাল্ট পাবেন। মানে কত জন লাইক করেছে, কত জন কমেন্ট করেছে, কত জন শেয়ার করেছে তার সংখ্যা। 

এটিই হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রাডিশনাল মার্কেটিং এর মধ্যে ডিফারেন্ট। যদি আমরা চিন্তা করি কোন মার্কেটিং টি বেস্ট তা হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। কারণ বর্তমান সময়টাই এমন যে ধীরে ধীরে সব কিছু ডিজিটাল হচ্ছে। মানুষ চায় যে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো খুব তাড়াতাড়ি হাতের মুঠোয় পায়। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আমরা অল্প সময়ে বেশি রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা আমাদের অনেক বেশি থাকে। তাই ট্রাডিশনাল মার্কেটিং(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা) আজকাল করলে তেমন একটা বেশি রেজাল্ট পাওয়া যায়  না কম সময়ে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্লাটফর্ম কোন গুলো?

এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন আসতে পারে যে ডিজিটাল মার্কেটিং(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা) এ প্ল্যাটফর্ম কোন গুলো বা কি ধরনের হয়? আপনি যদি একটু চিন্তা করে দেখেন যে ডিভাইসে মাধ্যমে আমি যদি পৌঁছে যেতে চাই তাহলে খেয়াল করুন আপনার ডিভাইসে কি কি কোন ধরনের প্ল্যাটফর্ম আছে। আপনি অবশ্যই বলবেন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, LinkedIn, YouTube ইত্যাদি। এইখানে এইভাবে বলা যেতে পারে যে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে মার্কেটিং করা হয় তা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। ব্লগ এর মাধ্যমে আপনাকে ইনফরমেশন দেয়া সেটি ব্লগ মার্কেটিং। ব্লগ এর মাধ্যমে আপনাকে ইনফরমেশন দেয়া সেটি ব্লগ মার্কেটিং বা কনটেন্ট মার্কেটিং। এটি হতে পারে ভিডিও কনটেন্ট, টেক্সট কনটেন্ট ইত্যাদি।  

তারপর মানুষ SEO করে, যাকে বলা হয় search engine optimization। সুতরাং বলা যেতে পারে যে সবগুলো প্লাটফর্ম আপনার কাছে আছে বা ভিজিবল। আপনি শুধু দেখান না যে এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্লাটফর্ম। নিচে এর সবগুলো প্ল্যাটফর্মের নাম দেওয়া হলো:

  • Email Marketing
  • Social Media Marketing
  • Search Engine Marketing
  • Search Engine Optimization
  • Inbound Marketing
  • Analytics and Data Management
  • Mobile Marketing
  • Affiliate Marketing
  • ECommerce Marketing
  • Performance Marketing
  • Video Marketing

কিভাবে মার্কেটিং শুরু করতে হয়?

আপনারা অনেকেই এই ধরনের প্রশ্ন করেন যে আমার একটি ব্র্যান্ড আছে আমি এটিতে কিভাবে গ্রও করলে আমি আমার অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারবো? এই ব্যাকবোন না থাকার কারণে সবাই বা অনেকই নরমাল মার্কেটার থাকে। যারা কি না প্রতিদিন পোস্ট করতে পারে। গুড মর্নিং, গুড আফটার নূন এই ধরণের পোস্ট করলে গ্রও তো হবেই না।  এইখানে নরমাল মার্কেটিং এবং গ্রও মার্কেটিং এর পার্থক্য আছে(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। এখন বুঝেন যে গ্রও মার্কেটিং হচ্ছে আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে গ্রও মার্কেটিং টা হচ্ছে এরকম যেখানে গ্রও বাড়তে থাকে, সম্ভবত হ্যাঁ!  আপনি মার্কেটিং বিষয়টিকে কোন ধরনের রুলস দিয়ে সীমাবদ্ধ করতে পারবেন না। 

এখন আমি আপনাদের কাছে চারটি মার্কেটিং ফ্যাক্ট বা মার্কেটিং ফানেল নিয়ে বলবো এবং সব সময় আপনি এই ৪টি বিষয় মনে রাখবেন যা আপনার সব মার্কেটিং এর সময় কাজে লাগবে।

প্রথমত যে মার্কেটিং ফ্যাক্ট টি সেটা হচ্ছে Awareness। এখন আপনি এটির মানে কিবুঝেন? Awareness মানে হচ্ছে আপনার অডিয়েন্সকে ওই প্রোডাক্ট বা বিষয়টি সম্পর্কে Aware করা। আর তখনিই আপনি আপনার অডিয়েন্সকে Aware করতে পারবেন যখনই আপনি নিজে ওই ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট সম্পর্কে Aware। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিন ধরণ আপনার কাছে একটি ক্লোথিং বিজনেস আছে এবং এই বাংলাদেশ এ আমরা জানি অনেক ক্লোথিং এর বিজনেস আছে। অন্য মানুষেরা কেন আপনার থেকে কিনবে বা কিভাবে আপনি আপনার অডিয়েন্সকে Aware করবেন।  আপনার মাথায় বুদ্ধি গুলো কিভাবে আসবে আপনার অডিয়েন্স এর জন্য কোন তা বেটার হবে। এটির জন্য আপনি আপনাকে ৩টি প্রশ্ন করতে পারেন:-

  • আপনার ব্র্যান্ড কি provide করে?
  • আপনার ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট কোনো নিবে মানুষ?
  • আপনার যে ব্র্যান্ড আছে সেটি মানুষকে কি ধরণের সমস্যার সমাধান দেয়?

এই ৩টি প্রশ্ন হয় গেল। আপনি নিজে নিজে এই প্রশ্ন গুলো উত্তর দিন, নিজের মধ্যে উত্তর আসে কিনা। একটু বোঝার চেষ্টা করি আগের উদাহরণ দিয়ে, আপনার একটি ক্লোথিং এর বিজনেস আছে তার মানে আপনি কাপড় provide করেন। এর পর আপনি চিন্তা করেন  আপনার ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট কোনো মানুষ নিবে; ধরুন, আপনি দেশি বা রিয়েল জামদানি কাপড় provide করেন।  সুতরাং আপনি বলতে পারেন যে কেউ চাইলে আমার কাছ থেকে রিয়েল জামদানি কাপড় কিনতে পারে। 

আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে সল্যুশন এর। এটি হচ্ছে এরকম যে আপনি ভাবতে পারেন যে জামদানি কাপড় না নিলেও তো আমি মোরে যাবো না। জামদানি ছাড়াও লাইফ চলবে।এবং আপনি আপনার অডিয়েন্স এর জন্য সবাই তো এই গুলো পড়ে না শুধু মাত্র মেয়েরা পড়ে। তাহলে এর সল্যুশন কি হতে পারে যে যেটা সবার কাছে লাগে বা নিজের মেন্টাল সেটআপ এর জন্য এটি বলতে পারেন যে বাংলাদেশ এর বিভিন্ন জায়গায় রিয়েল জামদানি কাপড় পাওয়া যায় না। আপনি সম্পূর্ণ রিয়েল জামদানি দিয়ে থাকেন এই যে জায়গা টি , এই জায়গা থেকে আপনি নিজে নিজেই Aware হয়ে গেলেন যে আপনি কি করেন।

আর মার্কেটিং ফ্যাক্ট এর ২য় পার্ট টি হচ্ছে consideration। এটি হচ্ছে যদি আপনার টাইমলাইনে কোন কিছুর অ্যাড আসে বা পোস্ট আসে আপনি কিন্তু সেটি কনসিডার করেন বা বিবেচনা করেন। এটা আপনি কিনবেন কি না।  আপনার কাছে যখন কোন একটি মোবাইলের অ্যাড আসে তখন আপনি কনসিডার করেন যে এটি আপনি কিনবেন কিনা। এক কোথায় আপনি আপনি একটু হলোও এটিকে বিবেচনায় নেন। এটিই হচ্ছে consideration ।

পূর্বের ২টি বিষয় আপনার অডিয়েন্স যদি কনসিডার করে তাহলে এটি আপনাকে এই পার্ট এ নিয়ে আসবে। যেটি হচ্ছে purchase বা action পার্ট। যখনই আপনার কাস্টমার বা অডিয়েন্স কনসিডার করবে তখন কিন্তু সে আপনার সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস টি নিবে। তার মানে আপনি এই মার্কেটিং এ সাকসেসফুল(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। কিন্তু তার মানে এইখানেই শেষ না। আমি বলতে চাচ্ছি যে ডিজিটাল মার্কেটিং এর strategy এখানেই শেষ হয় না। 

এরপরের যে স্টেপটি রয়েছে তা হলো post purchase stage। দেখুন অনেক ব্র্যান্ড থাকে যারা মার্কেটিং করে এবং দিন শেষ এ তারা ডিজিটালি হোক বা নরমালি হোক আপনার কাছ থেকে কোনো কাস্টমার কোনো কিছু purchase করে আপনি কিন্তু খুশি হয়ে যান। কিন্তু এই post purchase stage এ অনেক এ এই ধরণের করে তারা ১০% কুপন কোড দিয়ে দেয় বা আপনি যদি রিভিউ দেন তাহলে আপনি ১০% কুপন কোড পেয়ে যাবেন। পরবর্তীতে তারা আবার ব্যাক করে তারা আবার ১০% কুপন কোড ব্যবহার করে কিছু কিনে। এর ফলে আপনার সেল এর হার বেশি থাকে এবং এই post purchase মার্কেটিং ongoing থাকে(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা)। এতে করে দেখবেন যে আপনার অডিয়েন্স বা কাস্টমার এর সাথে ট্রাস্ট বিল্ড হয়ে যায়। 

উপরের এই 4 টি বিষয় ভালোভাবে জানলে আপনি মার্কেটিং(ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা) শুরু করতে পারেন এবং সফলভাবে করতে হয় যে কোন ব্র্যান্ডের জন্য। আজকের এই কনটেন্ট থেকে আপনি যদি কোন কিছু নতুন শিখেন, তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজ এখান থেকেই। ধন্যবাদ!

By Blogger Ujjal

Ujjal is a professional blogger from Bangladesh. He has been working as a blogger for 3 years. He loves this sector and tries to publish different types of content.

Leave a Reply

Your email address will not be published.